
জুয়েল চৌধুরী :: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের শুকড়িপাড়া গ্রামে স্কুল ছাত্রী ইউপি মেম্বারের লালসায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ওই ধর্ষক মেম্বারকে উত্তম মধ্যম দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্কুল ছাত্রীর পরিবার। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের কন্যা স্কুল ছাত্রী (১৩) কে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই কিশোরী ও তার পিতা জানায়, তার মেয়ে স্কুলে যাওয়া আসার পথে কু-নজর পড়ে নিজামপুর ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র ১নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আউয়াল আহমদ (২৫) এর। প্রায়ই তাকে কু-প্রস্তাব দিত। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে ছাত্রীর পিতা বিচার প্রার্থী হয়। এতে আউয়াল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই ছাত্রীর উপর। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় কিশোরী পাশের বাড়িতে জি বাংলায় সাত ভাই চম্পা দেখার জন্য বের হয়। এ সময় পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা মেম্বার ও তার সহযোগীরা মুখ বেধে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মেম্বার। এদিকে কিশোরীকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুজি করে বাড়ি পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে। পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই মেম্বার প্রভাবশালীদেরকে নিয়ে এসে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে এবং স্থানীয় ফার্মেসীতে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। এরপর এ নিয়ে স্থানীয় মাতব্বররা ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা চালায়। তারা অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হওয়ায় তাদের এ অন্যায় প্রস্তাব মেনে নেয়। এদিকে, কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং টাকা না দেয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে ইউপি মেম্বার ও তার লোকজন বাধা দেয়। এক পর্যায়ে কিশোরীর পরিবার মেম্বারকে উত্তম মধ্যম দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে, মেম্বার ও তার লোকজন আইনগত ভাবে যাতে কোনব্যবস্থা না নেয় সেজন্য টাকার বিনিময়ে দামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ধর্ষণের অভিযোগে ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বাকীটা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply