1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 9:04 am

বানিয়াচংয়ে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি

Reporter
  • Updated Saturday, January 19, 2019
  • 632

সংবাদদাতা :: বানিয়াচং উপজেলা সদরে যত্রতত্র অনুমোদনবিহীন দোকানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ আশেপাশের লোকজন রয়েছেন ঝুঁকির মুখে। এছাড়াও এলপি গ্যাসের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারে নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই। যত্রতত্র এসব সিলিন্ডার বিক্রির কারণে জনমনে দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিলেও এসব ব্যাপারে উদাসীন প্রশাসন। উপজেলা জুড়ে অনুমোদনহীন এসব দোকানে সিলিন্ডার বিক্রির হিড়িক পড়লেও স্থানীয় প্রশাসন আছে লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায়। বানিয়াচং সদর  ছাড়াও বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে যত্রতত্র এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এমনকি সেলুন, মুদি দোকান, স্টুডিও, বইয়ের দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রী, কসমেটিক্স, জুতার দোকান, ফার্নিচার ও ফোন-ফ্যাক্সের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এই সিলিন্ডার গ্যাস। উপজেলার অধিকাংশ দোকানীর এলপি গ্যাস বিক্রির অনুমোদন নেই। অনেক দোকানে পুরাতন সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি দৃশ্যমান নয়। সদরের প্রায় সবকটি হাট-বাজারের অধিকাংশ দোকানে বিভিন্ন সাইজের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য তালিকাও টাঙ্গানো নেই। এসব মৌসুমি দোকানীদের এলপি গ্যাস ব্যবহারের নিয়ম কানুনও জানা নেই। সস্তায় নিম্নমানের রেগুলেটর, গ্যাস সরবরাহ পাইপ ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ চুলা বিক্রির হিড়িক পড়েছে বানিয়াচংয়ে। উপজেলার কোথাও জাতীয় গ্যাস লাইনের সংযোগ না থাকায় বিশেষ করে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও রেস্টুরেন্টে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এবং দামও রাখা হচ্ছে ইচ্ছেমত। এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম কানুন জানা না থাকায় দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সামছুল ইসলাম জানান, এলপি গ্যাস ও পেট্রোলিয়ামের সঙ্গে অনেকগুলো সংস্থা জড়িত। এলপি গ্যাসের বাজার অভিভাবকহীন ছিল। এ ব্যাপারে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার বিক্রেতাদের সতর্ক করা হচ্ছে। এলপি গ্যাস বিক্রির জন্য সনদ ও তদারকির কাজ বিস্ফোরক অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ করে থাকেন। এলপি গ্যাস কারা বিক্রি করছে, তাদের বিক্রির অনুমোদন আছে কি না সেটাও বিস্ফোরক অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ দেখেন। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনেরও এ ব্যাপারে করণীয় অনেক কিছুই আছে। যারা বিক্রি করছে তাদের ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স লাইসেন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনা চলছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সিলিন্ডারগুলোতে মেয়াদ উল্লেখের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে এলপি গ্যাস বিক্রেতারা জানান, তারা সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো অনুমোদন মেলেনি। তবে বর্তমানের ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। সরকারি অনুমোদন পাওয়ার আগেই এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারসহ নানা সরঞ্জাম বিক্রি করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে যত্রতত্র এলপি গ্যাস বিক্রির ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এতে করে অনুমোদিত বিক্রেতারা লোকসানের মুখে পড়ছেন, পাশাপাশি ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছেন। বেশ কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমোদনহীন এলপি গ্যাস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও এ ধরনের অভিযান এখন নেই বললেই চলে। বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন খন্দকার যত্রতত্র এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বিষয়টি স্বীকার করে জানান, যে কেউ ইচ্ছে করলেই এই দাহ্য পদার্থ এলপি গ্যাস বিক্রি করতে পারেনা। বিক্রি করাটা সম্পূর্ণ বে-আইনি। তবে কেউ যদি কোনো ধরণের অভিযোগ প্রদান করে তাহলে দ্রæত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলায় কতগুলো দোকানে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে তারও একটি তালিকা শীঘ্রই তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন এ নির্বাহী কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD