
চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ সরকারী রাস্তার উপর দোকান নির্মান করতে বাঁধা দেয়ায় গ্রামবাসির উপর চাঁদাবাজির মামলা করেছেন প্রভাবশালি মজিবুর রহমান ( রাকিব মহুরী)। মামলার বাদি এলাকার মেম্বার আজাদ মিয়াসহ ১২ জনকে মদখোর, ইয়াবা খোর ও চাঁদাবাজ হিসেবে উল্লেখ করছেন। মামলাটি দায়েরের পর নিরীহ গ্রামবাসি আতংগ্রস্থ পড়েছেন। কেউ কেউ পুলিশের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। সরজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হত দরিদ্র ৬৫ টি পরিবার ইছালিয়া নদী ঘেঁষা কোনাগাও গ্রামে বিগত ৪০ বছর যাবৎ বসবাস করে আসছে। ওই গ্রামবাসির চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি ইছালিয়া নদীর কিনার ঘেঁেষ নির্মিত হয় সে সময় থেকেই। সম্প্রতি রাস্তাটিতে ইট সলিং করতে উদ্যোগ নেন গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজাদ মিয়া। এ খবর পেয়ে জারুলিয়া গ্রামের রকিব মহুরী ইছালিয়া সেতুর কিনার ঘেঁষে গজে উঠা সরকারী বৃক্ষ কেটে সাবাড় করে দেন ও কোনাগাও গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তার উপর দোকান পাঠ নির্মানের সকল আয়োজন সমাপ্ত করেন। রকিব মহুরীর এহেন কর্মকান্ডে গ্রামবাসিরা বাঁধা দেন এবং রাস্তার উপর দোকান নির্মান না করার অনুরোধ করেন কিন্ত রকিব গ্রামবাসির মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে গত ৪ এপ্রিল চুন্রাুঘাট থানায় একটি জিডি করেন। জিডির সুত্র ধরে চুন্রাুঘাট থানার দারোগা মইন উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় উপস্থিত থাকার নোটিশ জারি করেন। এরই মাঝে মজিবুর রহমান রকিব গত ৮ এপ্রিল হবিগঞ্জ কোর্টে এলাকার আজাদ মেম্বারসহ ১২ জন গ্রামবাসির উপর চাঁদা বাজির মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামী সকলকে চাঁদাবাজ,মদখোর ও ইয়াবা খোর বলে উল্লেখ করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করার জন্য চুন্রাুঘাট থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কোনাগাঁও গ্রামের হত দরিদ্র মানুষ জন বলেন,বিগত ৪০ বছর ধরে তারা এ রাস্তাটি বংশ পরম্পরায় ব্যবহার করে আসছেন। সরকারী এ রাস্তাটি দখলে নিয়ে প্রভাবশালী রকিব মহুরীকে দোকান পাঠ নির্মানে নীতিগত বাঁধা দেয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রামের সাধারন মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়ারানি করার খেলায় নেমেছেন। গ্রামবাসিরা বলেন,‘ জান দেবো তবু রাস্তার দখল নিতে দিবো না’। কারন চলাচলের একমাত্র এ রাস্তা দিয়ে তাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করে। এ রাস্তাটি না হলে গ্রামবাসিরা লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply