
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহওর সিলেট তথা দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমকুল শিরোমণি আল্লামা তাফাজ্জুল হক (৮২) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না……রাজিউন)। হবিগঞ্জ শহরের জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা হতে অসুস্থ অবস্থায় সিলেট প্রেরণকালে পথিমধ্যে গতকাল রবিবার বিকেল পৌনে ৫টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে উমেদনগর টাইটেল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। শাইখ তাফাজ্জুল হক দাঃবাঃ ১৯৩৮ সালে হবিগঞ্জের কাটাখালী গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৬১ সনে তিনি সফলতার সাথে চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করার পর বিশ্বের অন্যতম ইসলামী বিদ্যাপীঠ পাকিস্তানের ‘জামিয়া আশরাফিয়া লাহোরে’ পাঠ গ্রহন করেন। পরে তিনি ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দের প্রিন্সিপালের নিকট ‘খুসূসী দরস’ বা ‘বিশেষ পাঠ’ গ্রহন করে ১৯৬৩ সালে দেশে ফিরে আসেন। তিনি কুমিল্লার দারুল উলুম বরুড়া মাদ্রাসা, আশরাফুল উলূম বালিয়া মাদ্রাসা ও জামিয়া ইসলামিয়া ময়মনসিংহে অধ্যাপনা ও শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি হবিগঞ্জে উমেদনগর ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই মাদ্রাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন। আল্লামা তাফাজ্জুল হক বাংলা ও উর্দুতে লেখা মূল্যবান অনেক গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন। এছাড়াও ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার পাশাশাশি তিনি নারীদের ইসলামী শিক্ষায় অগ্রগামী করার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘জামিয়া শারইয়্যাহ মহিলা মাদ্রাসা’। আল্লামা তাফাজ্জুল হকের ইন্তেকালের পর জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় ছুটে যান ভক্ত ও শুভাকাঙ্খিবৃন্দ। রাত যত বাড়তে থাকে ততই শোকার্ত মানুষের ঢল নামে মাদ্রাসা মাঠে। হবিগঞ্জ শহরের গন্যমান্য ব্যক্তিদের দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দিতে। মাইকে ঘোষানা দেয়া হয় সোমবার উমেদনগর জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে মরহুমের নামাজে জানাজা। জানাযার পর মাদ্রাসা প্রাঙ্গনেই দাফন কাজ সম্পন্ন হবে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply