1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 12:09 pm

“আম্মা গো আমারে দেশে নেও, সৌদির অবস্থা একেবারে খারাপ”

Reporter
  • Updated Sunday, March 15, 2020
  • 446

মতিউর রহমান মুন্না ॥ “আম্মা গো আমারে দেশে নেও, সৌদির অবস্থা একেবারে খারাপ। বেটিনতে কালি কান্দে, (নারীরা শুধু কাঁদে)। দেশে থাকতে ইন্টারনেটে যে দেখতাম সৌদিতে মানুষরে মারে, বেইজ্জত করে (নারীদের যৌন নির্যাতন করে), বাংলাদেশে থাকতে ইন্টারনেটের দেখা সকল দৃশ্যই বাস্তব, কিছুই ভুল নায়। অফিসে দিনের পর দিন যায়, রাইতের পর রাইত যায়, কেউ খানি (খাবার) দেয় না। দালালরা কয় (বলে) তোমরারে ২ লাখ টেকা (টাকা) দি তোমরারে কিইন্না (কিনে) আনছি। বাংলাদেশের অফিস থাকি কল দিয়া কয় আমরারে মারার লাগি, মাগনা আনছি নি, টেকা দি কিইন্না আনছি। একটা পুয়া যে মাইর মারছে গো আম্মা, পরে কইছি আমারে যা কইবে তা করমু। পরে আমারে দিয়া ভিডিও করাইয়া দেশে দিছে। আম্মাগো আমারে বাচাঁও, সালামের লগে যোগাযোগ করো। আমারে দেশে নেও।” নবীগঞ্জের ইভা বেগমের টেলিফোনে কথোপকথন এটি। এভাবেই সৌদি থেকে বাংলাদেশী নারী শ্রমিক ইভা বেগম দেশে ফেরার জন্য স্বজনদের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে আকুতি জানাচ্ছেন। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় স্থানীয় দালালের মাধ্যমে প্রায় ৩ মাস পূর্বে মরুর দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমান নবীগঞ্জের এই নারী। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাকে বিক্রি করে দেয় দালালরা। এরপর থেকেই শুরু হয় তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সুযোগ পেলেই কল দিয়ে দেশে থাকা স্বজনদের কাছে আকুতি জানায় দেশে ফেরানোর জন্য। নির্যাতনের শিকার ইভা বেগম নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর গ্রামের নূর হোসেনের স্ত্রী। বার বার মানবপাচারকারীর বাড়ী গিয়েও স্ত্রীকে ফেরত আনতে না পেরে হতাশ স্বামী নূর হোসেন হবিগঞ্জ মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নূর হোসেনের বাড়ীতে প্রায়ই যাতায়েত করতো তাদের পূর্ব পরিচিত নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা টুনাকান্দি গ্রামের সালাম মিয়া। আসা যাওয়ার সুবাধে ইভা বেগমকে প্রায়ই মোটা অংকের টাকার লোভ দেখাত। বিদেশ গেলে পরিবারের আর কোন অভাব অনটন থাকবে না বলেও প্রলোভন দেখাত সালাম। দালাল চক্রের পাল্লায় পড়ে গেল বছরের ২৮ ডিসেম্বর মরুর দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমায় ইভা বেগম। কে জানতো সেখানে গিয়ে তার হাসি পরিণত হবে কান্নায়। ইভার বেলায় সেটাই ঘটেছে। সূত্রে জানা গেছে সালাম মিয়া ভ্যালি ইন্টারন্যাশনাল নামের রাজধানীর এক ট্যাভেল্স এজেন্সির মাধ্যমে দুই সন্তানের জননী ইভা বেগমকে নারী কর্মি হিসেবে সৌদি আরব পাঠায়। কিন্তু তার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে দালাল চক্র। চাকরির পরিবর্তে তাকে বিক্রি করা হয়েছে অন্য এক দালাল চক্রের কাছে। সেখানে দালাল চক্রের সদস্যদের কথা মতো অনৈতিক কাজ না করলে তার উপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। মোবাইল ফোনে ইভা বেগম দেশে থাকা স্বজনদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দেন এবং থাকে দ্রুত দেশে ফেরাতে আকুতি জানান। নির্যাতিত ইভা বেগমের স্বামী নূর হোসেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রাম্য শালিস বিচারদের কাছে বিষয়টি জানালেও কারো ডাকে সাড়া দেয়নি সালাম। নূর হোসেন জানান তিনি পেশায় একজন গাড়ী চালক। তাকে না জানিয়েই দালালদের পাল্লায় পড়ে হঠাৎ শশুর বাড়ী গিয়ে সেখান থেকে সৌদি পাড়ি জমায় তার স্ত্রী ইভা। নূর হোসেনের অভিযোগ স্ত্রীকে দেশে ফেরাতে বললে নারী পাচারকারী সালাম ও জাহাঙ্গীর উল্টো ২ লক্ষ টাকা দাবি করছে। এ ঘটনায় তিনি ৩ জনকে আসামী করে হবিগঞ্জ মানব পাচার ট্রাইব্যুনালের মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামীরা হলো- উপজেলার লতিবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়া, প্রজাতপুর গ্রামের মামুন মিয়া। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান নির্যাতনের শিকার ইভা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে যদি কেউ তথ্যসহ অভিযোগ দেয় প্রশাসন তাকে দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং দালালদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ারও আইন রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে- গ্রামে গ্রামে গিয়ে কিছু স্থানীয় দালালরা সহজ সরল নারীদের প্রলোভন দিয়ে সৌদিসহ মধ্যপাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠায়। সেখানে গিয়ে তাদের উপর শুরু হয় নানা নির্যাতন। এসব দালালদের তালিকা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবী সচেতন মহলেরর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD