1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 11:29 am

করোনায় কর্মহীন হবিগঞ্জের সাংবাদিকরা, অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের

Reporter
  • Updated Sunday, April 19, 2020
  • 518
স্টাফ রিপোর্টার  : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জনগণের মাঝে অপ্রতিরুদ্ধ ভয়ঙ্কর আতঙ্ক তৈরি করেছে করোনাভাইরাস। যার প্রভাবে আজ বিশ্ব ধরাশায়ী। নিস্তব্ধ করে রেখেছে হবিগঞ্জসহ সারাদেশ। আর এর প্রভাবে বন্ধ হয়ে আছে হবিগঞ্জের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হবিগঞ্জের প্রিন্ট পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা। আগামী দিনগুলোতে পরিবার পরিজনের কি হবে এই অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। অনেকের কপালে আর্থিক সংকট নিয়ে চিন্তার রেখা ফুটে উঠছে। অনিশ্চিত জীবনের চিন্তায় পার করেছেন সময়। ভাবছেন কিভাবে মোকাবেলা করবেন এই মহামারি সংকট? প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে নিজে ও পরিবারকে কিভাবে বাঁচাবেন?
করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া ঘর বন্দি সাংবাদিকদের নিয়ে হবিগঞ্জের এক দৈনিক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের সাথে কথা হয়।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের ভয়ে হবিগঞ্জে বসবাসকারী অনেকেই প্রিন্ট পত্রিকা ঘরে রাখছেন না। হকাররাও পত্রিকা বিলি করতে অনীহা প্রকাশ করছে। তাই বাধ্য হয়ে গত ২৬ মার্চ থেকে হবিগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে হবিগঞ্জের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে কর্মরত সাংবাদিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েন।
তিনি আরো বলেন, হবিগঞ্জের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এরকম কোনো ক্রান্তিকাল আসে নাই। হবিগঞ্জেরর স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো এভাবে কোনো দিন বন্ধ হয় নাই। নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে প্রতিদিন পত্রিকা বের হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পত্রিকা বন্ধ রয়েছে। আর কতদিন এভাবে দৈনিক পত্রিকাগুলো বন্ধ থাকবে তা আজও অজানা।
কর্মহীন হয়ে পড়া হবিগঞ্জের আরেক বার্তা সম্পাদক জানান, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক সবার মাঝে কাজ করছে। কর্মহীন এই সময়ে বই পড়ে, পরিবার সদস্যদের সাথে আড্ডা এবং নেট ব্রাউজিং করে সময় যাচ্ছে। কিন্তু এটা কোনোভাবে মেনে দিতে পারছি না, প্রতিনিয়ত নিজের সাথে যুদ্ধ করছি। হবিগঞ্জসহ দেশের মানুষকে সংবাদ জানাতে জানাতে সাংবাদিকতার নেশায় পড়ে গেছি। বড় কষ্ট হচ্ছে এই নেশা থেকে দূরে থেকে। পারছি না কাজ করতে দেশ ও মানুষের জন্য। করোনা আমাদের ঘর বন্দী করে রেখেছে। সরকার যদি আমাদের করোনাভাইরাসের সুরক্ষা সরঞ্জাম দিতো তাহলে হয়তো কাজ চালিয়ে যেতে পারতাম।
কর্মহীন সময় কেমন যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের প্রিন্ট পত্রিকা ছাপানো বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন এই সময়ে ঘরবন্দী হয়ে আছি। সংবাদ সংগ্রহের চাপ না থাকায় পরিবারকে সময় দিচ্ছি। তবে মন পড়ে থাকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য। কর্মচঞ্চল মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে পড়ে তখন তার মাঝে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তায় সবসময় থাকে আতঙ্কগ্রস্ত। এমনিতেই হবিগঞ্জের প্রিন্ট পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা বেতন ভাতা ঠিকমতো পান না। এরমাঝে কর্মহীন হয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তা আরো বেড়েছে। তারা সমাজের সব অসঙ্গতি তুলে ধরেন কিন্তু তাদের নিয়ে ভাবার সময় কারো নাই। গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা সীমাহীন কষ্টে দিনযাপন করলেও কারো কাছে হাত পাতে লজ্জাবোধ করেন। তাই নীরবে দুঃখ কষ্ট সহ্য করে যান।
এ বিষয়ে  হবিগঞ্জের আরেক দৈনিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, হবিগঞ্জের প্রিন্ট পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা ভালো নেই। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে এ রকম দুর্যোগে কখনও দেখি নাই। মিছিল, মিটিং, মারামারি, গোলাগুলি, রাজনৈতিক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, কারফিউ, স্বৈরশাসকের আমলেও কাজ করেছেন সাংবাদিকরা। কখনও ইটের আঘাত কখনও বা ককটেলের স্পিনটার স্প্রিন্টার ঢুকছে তাদের গায়ে, তারপরও হবিগঞ্জের প্রিন্ট পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা কাজ থেকে সরে দাঁড়ান নাই। কিন্তু এই মহামারি করোনাভাইরাস আমাদেরকে ঘরে বন্দী করে কাজ থেকে রেখেছে দূরে। আশা করি সৃষ্টিকর্তা আমাদের এই গজব থেকে তাড়াতাড়ি মুক্ত করবেন। মনের আনন্দ নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে যোগ দিতে পারবে সবাই।
তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সেক্টরকে প্রণোদনা দিয়েছেন। কিন্তু দুখের বিষয় সংবাদকর্মীদের জন্য কোনো সহযোগিতা প্রদান করা হয় নাই।
হবিগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকাগুলোর প্রধান আয়ের উৎস বিজ্ঞাপন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানই কোনো বিজ্ঞাপন দিচ্ছে না। তাই এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকারের উচিত সাংবাদিকদের এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো। সাংবাদিকরা সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে হবিগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকাগুলো বন্ধ থাকলেও দ্বিতীয় দফায় বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এরপর ৩য় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এর ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হবিগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD