1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 12:18 pm

ডলারের ঘোষিত দর মানছে না ব্যাংক

Reporter
  • Updated Saturday, July 8, 2023
  • 196

সময় ডেস্ক : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ডলার কেনার একটি দর ঠিক করছে ব্যাংকগুলো। প্রবাসীদের থেকে রেমিট্যান্স কেনায় সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা এবং রপ্তানি বিল নগদায়নে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সার বেশি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে চাপিয়ে দেওয়া এ দর মানছে না অনেক ব্যাংক। রেমিট্যান্সে প্রতি ডলার ১১২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দর দেওয়ার তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে সাতটি ব্যাংক এবং ৯টি এক্সচেঞ্জ হাউসের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছে সংস্থাটি। আগামী রোববার সব ব্যাংককে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, মে-জুন সময়ের এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১০ কোটি ডলার পরিশোধ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে করে রিজার্ভ আবার ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে। বৃহস্পতিবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নামে ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। আগের দিন যা ৩১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘ সাত বছর পর গত মে মাসে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। তবে গত ২৬ জুন এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের ৫২ কোটি ডলারের ঋণ, জুনে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ওঠে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘোষণার চেয়ে বেশি দরে ডলার কেনায় এর আগে কয়েক দফা কিছু ব্যাংককে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ। ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংকের রেমিট্যান্স সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জরিমানা করা হবে বলেও জানানো হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে রেমিট্যান্স এবং ১০৭ টাকা ৫০ পয়সায় রপ্তানি বিল নগদায়ন করার কথা। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বিল নগদায়নের গড় দরের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১ টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করতে পারবে ব্যাংক। তবে কোনো অবস্থায় তা ১০৯ টাকার ওপরে যাওয়া যাবে না। সর্বোচ্চ ১০৯ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত না মানায় ৩ জুলাই ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে চিঠি দেয় বাফেদা ও এবিবি।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ডলারের সর্বোচ্চ দর ব্যাংকগুলো নিজেদের থেকে ঠিক করছে, তেমন নয়। বরং বাফেদা ও এবিবির মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। কেননা রেমিট্যান্স আহরণ এবং সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সব ব্যাংকের সক্ষমতা এক নয়। যে কারণে একই দর দিলে অনেক ব্যাংক কোনো রেমিট্যান্সই পাবে না। অবশ্য বাড়তি দর দেওয়ার তালিকায় এমন ব্যাংক রয়েছে, যারা রেমিট্যান্স আহরণে প্রথম সারিতে রয়েছে। ফলে দর চাপিয়ে না দিয়ে অন্য কোনো উপায় বের করতে হবে।
জানা গেছে, বিএফআইইউর বৈঠকে ঘোষণার চেয়ে বাড়তি দরে ডলার কেনাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা জানান, ডলার পেতে কোনো একটি ব্যাংক গোপনে যখনই বাড়তি দর দিচ্ছে, অন্য ব্যাংক আর তার কাছে নির্ধারিত দরে ডলার পাচ্ছে না। কেউ কেউ বলেছেন, এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো একটি দর ঠিক করে তার চেয়ে কম দরে বিক্রি করবে না বলে জানিয়ে দিচ্ছে। আর আমদানিকারক বলছেন, দর যাই হোক, ডলার দিতে হবে। তখন গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে নিরুপায় হয়ে বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে। এখন সব ব্যাংককে যদি একই দর মানতে বাধ্য করা যায়, তাহলে আর সমস্যা থাকবে না। বৈঠকে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রবাসীরা হুন্ডিতে না পাঠিয়ে যেন ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠান সে বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়।
ঘোষণার চেয়ে বেশি দরে ডলার কেনা নিয়ে এর আগে গত ২১ মে বিএফআইইউ সাতটি ব্যাংক এবং কয়েটি এক্সচেঞ্জ হাউসের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে। গত ২ এপ্রিল ব্যাংকের এমডিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ নিয়ে সতর্ক করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ঘোষণার চেয়ে বেশি দরে ডলার কেনার বিষয়ে ওই দিন ১১টি ব্যাংকের এমডিকে নিয়ে আলাদাভাবে বৈঠক করে সতর্ক করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলারের ওপর চাপের কারণেই এমন হচ্ছে। যদিও সংকট কাটাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এবং সরকারি কেনাকাটায় কড়াকড়ি করা হয়েছে। এতে করে গত মে পর্যন্ত আমদানি ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। প্রবাসী আয় বেড়েছে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। এর পরও ডলার সংকট না কাটার প্রধান কারণ বিদেশি ঋণ ব্যাপকভাবে কমছে। গত মে পর্যন্ত আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে ২৫৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে উদ্বৃত্ত ছিল এক হাজার ৩৩৭ কোটি ডলার। সংকট কাটাতে গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। ২০২১-২২ অর্থবছর বিক্রি করা হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এভাবে ডলার বিক্রির ফলে রিজার্ভ কমছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD