1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 11:01 am

লাখাইয়ে ভর্তুকির কৃষিযন্ত্র দিয়ে চলছে রমরমা বানিজ্য

Reporter
  • Updated Thursday, September 28, 2023
  • 155

লাখাই প্রতিনিধি : লাখাই উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়নের স্বজনগ্রামে সরকারি ভর্তুকি যন্ত্রপাতি নিজ নামে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্বজনগ্রামের বাসিন্দা আশীষ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিজ নামে এবং তার ঘনিষ্ঠ লোকদের মাধ্যমে একাধিক যন্ত্রপাতি কিনে এনে তা পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে রমরমা বানিজ্য করছে আশীষ দাশ গুপ্ত। তাকে একাজে সহায়তা করছেন লাখাই উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অমিত ভট্টাচার্য্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ৭/৮ মাস পূর্বে লাখাই উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ভর্তুকির মাধ্যমে পাওয়ার টিলারচালিত সীডার এনে তা ব্যবহার না করে মাধবপুরে তার চাচাতো বোনের স্বামী সঞ্জয় দেব বাপ্পুর নিকট বিক্রি করেন।
শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা ও লাখাই বাজারের মেশিন মেকানিক যতীশ বৈষ্ণব জানান, ৫/৬ মাস আগে আমি নতুন মেশিন ফিটিং করে লাখাই থেকে মাধবপুরের রতনপুরে আশীষ দাশ গুপ্তের ছোট বোন জামাইয়ের (সঞ্জয় দেব বাপ্পু) কাছে পৌঁছে দিয়েছি। বিনিময়ে আমাকে ১ হাজার টাকা মজুরি দিয়েছে। আশীষ দাশ গুপ্ত বিভিন্ন সময়ে তার আয়ত্তের লোকদের দিয়ে একাধিক ধান মাড়াই করার মেশিন এনে তা ব্যবহার না করে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলায় বিক্রি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোতি মিয়া জানান, গুপ্ত হাটি হরি মন্দিরে একটি মেশিনের বাক্স দীর্ঘদিন ছিল। পরে তা লোকজনের মাধ্যমে গাড়িতে করে নিয়ে যেতে শুনেছি। তাছাড়া নতুন মেশিন দিয়ে সে হাওরে কোনো চাষাবাদ করেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আইয়ুব রেজা ইমরান জানান, সে বিভিন্ন সময়ে নামে বেনামে মেশিন এনে রাতের আধাঁরে বিক্রি করে। যার কারনে আমাদের স্বজনগ্রামের কৃষকরা এর সুফল পায় না।
স্বজনগ্রামের বাসিন্দা তাউছ মিয়া জানান, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অমিত ভট্টাচার্যের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সে মেশিন, সরকারি বীজ, সার বিক্রি করে। পাওয়ার টিলারটি বাক্সবন্দী অবস্থায় গুপ্ত হাটি হরি মন্দিরে ছিল। পরে মেকানিক ষতীশ বৈষ্ণব ও প্রতিবেশি খোকন মিয়াকে দিয়ে তার চাচাতো বোনের স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেয়। তাছাড়া অমিত ভট্টাচার্যের সহযোগিতায় আশীষ দাশ গুপ্ত নিজের ঘনিষ্ট লোক যাদের অধিকাংশ কৃষক নয় তাদের নিয়ে কৃষি সমিতি গঠনের মাধ্যমে টাকা পয়সা আত্মসাতের পাঁয়তারা করে। যার ফলে প্রকৃত কৃষকেরা কোনো সুযোগ সুবিধা পায় না।
গুপ্ত হাটির বাসিন্দা জালাল মিয়া জানান, বিগত অগ্রহায়ন মাসে আশীষ দাশ গুপ্ত কৃষি অফিস থেকে ৫ বস্তা সার আনে। তন্মধ্যে আমার কাছে ১ বস্তা টিএসপি সার ৮ শত টাকায় বিক্রি করেছে ।
স্থানীয় বাসিন্দা অর্চনা সূত্রধর জানান, টুম্পার স্বামী (সঞ্জয় দেব বাপ্পু) লাখাই থেকে এসে মেশিনটি নিয়ে যায়। সে আমাদের ঘরে আসলে তাকে মেশিনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি এবং সে জানায়, মেশিনটি সে লাখাই থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সঞ্জয় দেব বাপ্পুর সাথে মুঠোফোনে আলাপ হলে জানান, আশীষ দাশ গুপ্ত আত্মীয় হওয়ার সুবাধে তিনি তার (আশীষ দাশগুপ্ত) ব্যক্তিগত মেশিনটি হালচাষের জন্য নিয়েছেন এবং মেশিনটি পুরাতন ছিল। পরবর্তীতে তিনি নতুন মেশিনটি অব্যবহৃত অবস্থায় মেকানিকের মাধ্যমে নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন এবং সেটি তার বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অমিত ভট্টাচার্যের সাথে মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশীষ দাশ গুপ্ত কৃষি অফিসে আবেদনের মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে মেশিন নিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে আমি সরেজমিনে মেশিনটি তদারক করতে গেলে সেটি তার বাড়িতে পাইনি।
লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিন বছরের আগে ভর্তুকির যন্ত্রপাতি বিক্রি বা হস্তান্তর করার কোনো আইন নেই। আমি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD