
রামকৃষ্ণ তালুকদার, আজমিরীগঞ্জ : আজমিরীগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের রুপা আমন ধান ও মাছ চাষকৃত বিভিন্ন পুকুর। এতে চিন্তিত কৃষকরা। কেউ ঋণ করে, আবার কেউ ধার করে জমি রোপন এবং মাছ চাষাবাদ করছে। বৃষ্টি নিয়েছে তাদের মুখের হাসি। হতাশায় নিমজ্জিত কৃষকরা। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা, বদলপুর, শিবপাশা ও কাকাইলছেও ইউনিয়নে হাওরের অধিকাংশ রুপা আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন জলসুখা ও বদলপুর ইউনিয়নের কৃষকরা।
কৃষক আদিল মিয়া জানান, আমি ও রনি দুই জন সম্মিলিত ভাবে ১৬০ খের জমি রুপন করছিলাম আমার দুই দিনের বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে এবং হাওরের মাছ ধানের চারা খাওয়া ধরেছে। আরেক কৃষক জানান ১০দিন আগে ধানের চারা রোপন করেছি চানপুর হাওরে সব তলিয়ে গেছে এখন চানপুর হাওরে বৃষ্টির পানি ঢেউ খেলে। আমার কষ্টের টাকা আর দিনরাতের পরিশ্রম এখন বৃষ্টির পানিতে বেসে গেছে। কৃষক মুছা মিয়া জানান, আমার অধিকাংশ জমি পানির নিচে, বৃষ্টি না কমলে বাকি জমিগুলো ও পানির নিচে তলিয়ে যাবে। কৃষক শাফিল মিয়া জানান, আমি ৫০ খের জমি রোপন করছিলাম, সব পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক টাকা ঋণ ও ধার এনেছি এখন আমি নিরুপায়। নোয়গড় গ্রামের হোমায়োন মিয়া জানান, আমাদের গ্রামের কয়েক শত একর জমি তলিয়ে গেছে।
মৎস চাষী আকাশ তালুকদার জানান, এ বছর ১ম বারের মতো মাছ চাষাবাদ করছি কিন্তু বৃষ্টির পানিতে পুকুর ডুবে সব মাছ হাওরে চলে গেছে। পাহাড়পুরের এক মৎস্য চাষী সুরঞ্জিত দাস জানান, আমরা তিন জন মিলে মাছ চাষাবাদ করছি কিন্তু বৃষ্টি পানিতে পুকুর ডুবে সব মাছ হাওরে চলে গেছে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফে আল মুঈন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমনের ৭ হাজার ৮ শত ১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৩২ শত ১০ হেক্টর রোপা আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন বৃষ্টির পানির স্থায়িত্ব বেশি দিন না হলে রিকভারি করা হবে। আর যদি পানি দীর্ঘ স্থায়ী থাকে আমরা মাঠ পরিদর্শন করে সরকারি বিধি মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ব্যবস্থা করা হবে।
Designed by: Sylhet Host BD