জুয়েল চৌধুরী : বোরো মৌসুমে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেও চাল সরবরাহ না করায় হবিগঞ্জের দুই চালকল মালিকের মোটা অংকের জামানত বাতিল করা হচ্ছে। যার পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
চুক্তি ভঙ্গকাররী ব্যবসায়ীরা হলেন- জেলা সদরের এসএন অটো রাইসমিলের স্বত্বাধিকারী শংকর পাল ও মাধবপুর উপজেলায় বেলঘর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানহা অটো রাইসমিলের স্বত্বাধিকারী মোশাররফ হোসেন চৌধুরী।
হবিগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক চাই থোয়াই প্রু মার্মা জানান, শংকর পালের মিল থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে সরকারের গুদামে এক হাজার ৩৪৮ টন ও মোশাররফের মিল থেকে এক হাজার ৩১৩ টন সেদ্ধ চাল সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু মোশাররফ মাত্র ৪৮ টন অর্থাৎ এক শতাংশের কম চাল সরবরাহ করেন। অন্যদিকে শংকর পাল কোনো চাল সরবরাহ করেননি।
একই সাথে শাস্তিস্বরূপ আগামী দুই মৌসুমের জন্য সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের বিষয়ে তারা আর চুক্তি করতে পারবে না।
তিনি আরো জানান, শংকর পালের প্রায় ১২ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং মোশাররফ হোসেন চৌধুরীর ১১ লাখ ৮১ হাজার ৭০০ টাকা জামানত দিয়েছিলেন। তাদের দুই থেকে তিন হাজার বস্তা বাবদ জামানতের আরও কিছু টাকা আছে। এসব টাকা সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শংকর পাল চাল সরবরাহ করতে পারেননি এমন কারণ দেখিয়ে জামানতের ১২ লক্ষাধিক টাকা রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
এদিকে চুনারুঘাটের ফাহিম অটোমেটিক রাইসমিলের মালিক দুই হাজার ৩২৮ টন চাল সরবরাহের কথা থাকলেও তিনি ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ এক হাজার ৯৯৬ টন সরবরাহ করেছেন। চুক্তির পরিমাণের ৬০ শতাংশের বেশি পরিমাণ সরবরাহকারী হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় তার জামানত অবমুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যেসব মিলার চাল সরবরাহে ব্যর্থ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শনিবার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। চুক্তির পরিমাণের ৬০ শতাংশের কম চাল সরবরাহকারী মিলগুলোর জামানত বাজেয়াপ্ত করার কথা নির্দেশনায় বলা আছে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply