
স্টাফ রিপোর্টার : চিকিৎসক সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে চলেছে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। প্রতিদিন মাত্র তিনজন চিকিৎসক, চার-পাঁচজন স্বাস্থ্য সহকারী ও কয়েকজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিলে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ এই উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ১০ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক আলমগীর হোসেন। রোগীর চাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, “চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীর চাপ একটু বেশি। একসঙ্গে অনেক রোগী আসলে হিমশিম খেতে হয়। বাহুবল আবার দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা, হঠাৎ করে অনেক রোগী চলে আসে। তারপরও চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দিতে।”
তিনি আরও জানান, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, আবাসিক বিভাগসহ মোট পাঁচটি দায়িত্ব একাই সামলাতে হচ্ছে তাকে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে প্রেষণে তিনি এখানে দায়িত্ব পালন করছেন।
চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মোট ১৭টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৪টি শূন্য। গাইনি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। একমাত্র জ্যেষ্ঠ নার্স রোকসানা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাকে একা এত রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। অলুয়া গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা রাশেদা আক্তার সকাল ১০টায় এসে দুপুর সাড়ে ১২টায়ও চিকিৎসা পাননি বলে জানান।
বহির্বিভাগে সেদিন তিন শতাধিক রোগী অপেক্ষা করছিলেন। চিকিৎসা দিচ্ছিলেন ডা. আলমগীর হোসেন ও শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রুবনা ফারজানা। ১৭ নম্বর কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী সার্জন মিজানুর রহমানের জন্যও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
এদিকে ১৪ নম্বর কক্ষে দন্তচিকিৎসক না থাকায় ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট শ্যামলী দেবী দন্তচিকিৎসার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ২০০৭ সাল থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো সরঞ্জাম এখন হাসপাতালে আছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। প্রতিদিন দুইবার করে শৌচাগার পরিষ্কার করা হয়। দায়িত্বরত কর্মীরা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হেল মারুফ ফারকী নিয়মিত ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। তবে রোববার তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি এবং একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ফার্মেসি থেকেও সব ধরনের ওষুধ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলা হয়।
সবশেষে, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমাবদ্ধতার মাঝেও অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।চিকিৎসার বদলে অপেক্ষা
বাহুবলে রোগীদের দীর্ঘশ্বাস
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চিকিৎসক সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে চলেছে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। প্রতিদিন মাত্র তিনজন চিকিৎসক, চার-পাঁচজন স্বাস্থ্য সহকারী ও কয়েকজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিলে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ এই উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ১০ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক আলমগীর হোসেন। রোগীর চাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, “চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীর চাপ একটু বেশি। একসঙ্গে অনেক রোগী আসলে হিমশিম খেতে হয়। বাহুবল আবার দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা, হঠাৎ করে অনেক রোগী চলে আসে। তারপরও চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দিতে।”
তিনি আরও জানান, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, আবাসিক বিভাগসহ মোট পাঁচটি দায়িত্ব একাই সামলাতে হচ্ছে তাকে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে প্রেষণে তিনি এখানে দায়িত্ব পালন করছেন।
চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মোট ১৭টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৪টি শূন্য। গাইনি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। একমাত্র জ্যেষ্ঠ নার্স রোকসানা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাকে একা এত রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। অলুয়া গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা রাশেদা আক্তার সকাল ১০টায় এসে দুপুর সাড়ে ১২টায়ও চিকিৎসা পাননি বলে জানান।
বহির্বিভাগে সেদিন তিন শতাধিক রোগী অপেক্ষা করছিলেন। চিকিৎসা দিচ্ছিলেন ডা. আলমগীর হোসেন ও শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রুবনা ফারজানা। ১৭ নম্বর কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী সার্জন মিজানুর রহমানের জন্যও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
এদিকে ১৪ নম্বর কক্ষে দন্তচিকিৎসক না থাকায় ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট শ্যামলী দেবী দন্তচিকিৎসার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ২০০৭ সাল থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো সরঞ্জাম এখন হাসপাতালে আছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। প্রতিদিন দুইবার করে শৌচাগার পরিষ্কার করা হয়। দায়িত্বরত কর্মীরা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হেল মারুফ ফারকী নিয়মিত ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। তবে রোববার তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি এবং একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ফার্মেসি থেকেও সব ধরনের ওষুধ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলা হয়।
সবশেষে, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমাবদ্ধতার মাঝেও অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply