
হবিগঞ্জ শহরের ২নং পুল এলাকায় এসপি অফিসের সামনে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ ট্র্যাভেলস অফিস। এসব ট্র্যাভেলসের আড়ালে চলছে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও নানা অনিয়ম।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ট্রাভেলস অফিসের মালিকরা পাসপোর্টের কাগজপত্রে জাল সিল ব্যবহার করে সত্যায়ন করছেন। এমনকি পুলিশের ক্লিয়ারেন্সও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করছেন তারা।
সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লার নির্দেশে ডিবির সাবেক ওসি আল-আমিনের নেতৃত্বে গোয়েন্দা শাখার একটি দল অতীতে এসব অফিসে অভিযান চালিয়ে জাল সিল, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, ভোটার আইডিসহ নানা সরঞ্জাম জব্দ করে। সেই সময় এক রোহিঙ্গা নারীর পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা মাহিকেও আটক করা হয়েছিল।
ওই অভিযানের পর কিছুদিন এসব কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ট্র্যাভেলস সিন্ডিকেট। পাসপোর্ট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করছে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এছাড়াও এসব অবৈধ স্থাপনায় রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রতিটি ট্র্যাভেলসে রয়েছে ৪-৫ জন করে দালাল, যারা গ্রামাঞ্চল থেকে আসা মানুষদের কৌশলে টেনে নিয়ে আবেদন প্রক্রিয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
দালালদের দাবি অনুযায়ী, প্রতিটি পাসপোর্ট আবেদনের জন্য ৫০০ টাকা দালালের কমিশন, আনসার সদস্যদের জন্য ৩০০ টাকা, জমা রাখার জন্য ১,০০০ টাকা এবং স্ক্যানিং বাবদ ৫০০ টাকা আদায় করা হয়।
এসব কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষ পড়ছে চরম ভোগান্তিতে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন- এসপি অফিস ও দুদক অফিসের নাকের ডগায় এ ধরণের অবৈধ কর্মকাণ্ড দিনের পর দিন চললেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, বরং অপরাধীরা হয়ে উঠছে আরো বেপরোয়া।
এ বিষয়ে প্রশাসনের ত্বরিত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
Designed by: Sylhet Host BD