
হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়নটি একটি হাওর ও বিলবেষ্টিত জনপদ। এ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষ বছরের চার মাস পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটান। বর্ষা মৌসুমে প্রতিটি গ্রামই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়। সন্ধ্যার পর নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তখন জরুরি প্রয়োজনে, বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা দেয় চরম ভোগান্তি।
স্থানীয়রা জানান, মাত্র ছয় কিলোমিটার নিচু সড়কটি উঁচু করে ‘আডুবা সড়ক’ নির্মাণ করা হলে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হতো। কিন্তু স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা লাখাই হেডকোয়ার্টার এখনো আধুনিক সড়ক যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত।
এ ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ধলেশ্বরী, কলকলিয়া ও সুতাং নদী। পাশেই রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর এবং কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার সীমানা। লাখাই বাজারকে ঘিরে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের আগমন ঘটে। শুধু সদর ইউনিয়নই নয়, আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। ফলে লাখাই বাজারে যাতায়াতের জন্য একটি আডুবা সড়ক এখন সময়ের দাবি।
কয়েক বছর আগে দরগাবাড়ী থেকে লাখাই বাজার পর্যন্ত একটি সাবমার্জিবল রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি বর্ষাকালে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। আডুবা সড়কের দাবিতে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। সংবাদমাধ্যমেও এ নিয়ে বহুবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়রা অবিলম্বে আডুবা সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, “লাখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দেরি না করে দরগাবাড়ী থেকে লাখাই বাজার পর্যন্ত সড়কটি উঁচু করে নির্মাণ করতে হবে।”
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, “দরগাবাড়ী থেকে লাখাই বাজার পর্যন্ত সাবমার্জিবল সড়কটিকে আডুবা সড়কে উন্নীত করার জন্য আমাদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত আডুবা সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ শত ৯৩ কোটি টাকা। “আমি আশাবাদী, অচিরেই এই প্রকল্প অনুমোদন পেয়ে যাবে”।
Designed by: Sylhet Host BD