
নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাখা বরাক নদীর উপর নির্মিত একটি সেতুর নিচে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে এক অসহায় পরিবার। প্রতিদিন সেতুর উপর দিয়ে ছুটে চলছে অসংখ্য ভারী যানবাহন, আর নিচে চলছে টিকে থাকার নির্মম সংগ্রাম।
৭২ বছর বয়সী মো. আলাবর মিয়া ও তার স্ত্রী-সন্তান, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ ১৫ সদস্যের পরিবার ২০০৯ সাল থেকে ওই ব্রিজের নিচে বাস করছেন। সামান্য পলিথিন ও কাঠ দিয়ে বানানো ঘরে প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই তাদের বসবাস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছয় ফুট উঁচু-নিচু স্থানে গড়া ওই ঝুপড়ি ঘরে প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে আতঙ্কে। দিনরাত ভারী গাড়ির শব্দে ঘুম ভাঙে পরিবারটির সদস্যদের। বিশেষ করে ছোট শিশুরা ভোগে চরম দুর্ভোগে। বর্ষা মৌসুমে ঘরে পানি ঢুকে জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।
আলাবর মিয়া জানান, “আমার নিজের কোনো জমি নেই। জীবনের শেষ বয়সেও একটি ঘর জোটেনি। পরিবারের কেউ লেখাপড়া করতে পারছে না। অসুস্থ হলেও ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই।”
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করেও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দা আল-মামুন বলেন, “এই পরিবারটির দুরবস্থা দেখলে চোখে পানি চলে আসে। এখনই সহযোগিতা না করলে এই শিশুগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে।”
আরেকজন স্থানীয়, সবুজ উদ্দিন জানান, পরিবারটি প্রতিদিন খাদ্য সংকটে থাকে। “এক বেলা খাবার জুটলেও অন্য বেলা অনাহারে কাটাতে হয়। অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থাও হয় না।”
দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বশির আহমদ বলেন, “পরিবারটি সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করলেও এখনো বরাদ্দ সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি ইউপি ও প্রশাসনের নজরে আছে।”
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো: ফরিদুর রহমান জানান, “পরিবারটিকে সরকারি বন্দোবস্তের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু সরকারি সহযোগিতা নয়, সমাজের বিত্তবানদেরও এখনই এগিয়ে আসা উচিত, যাতে অসহায় এই পরিবারটি মানবিক জীবনে ফিরতে পারে।
Designed by: Sylhet Host BD