1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 8:32 am

সাতছড়ির গাছ পাচারের প্রতিবেদন করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • Updated Friday, September 5, 2025
  • 114

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কোটি টাকার সেগুন গাছ পাচারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বন কর্মকর্তাদের হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে এবার চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন সাতছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার (৩০ আগস্ট) দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক ও ওয়াইল্ডলাইফ এক্টিভিস্ট মুজাহিদ মসি এবং দৈনিক বাংলা টাইমসের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ত্রিপুরারী দেবনাথ তিপু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতছড়ি উদ্যানে সেগুন পাচারের আলামত সংগ্রহে গেলে বন কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়ার্ল্ডলাইভ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনায় দুই সাংবাদিক থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে বন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বনের গাছ কাটার সত্যতা পান। হামলার শিকার দুই সাংবাদিককে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সাহসিকতার জন্য অভিনন্দনও জানানো হয়। সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এরই মধ্যে গত বুধবার সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে পাল্টা মামলা দায়ের করেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মুজাহিদ মসি বলেন- “সেগুন গাছ পাচার আড়াল করতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। বন কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অপকর্মের আরও প্রমাণ আমার কাছে আছে। সাংবাদিকতার কলমের কাছে এসব অভিযোগের মৃত্যু ঘটবে ইনশাল্লাহ।”
আইনজীবী ও সাংবাদিক নেতা শাহ ফখরুজ্জামান বলেন- “মুজাহিদ মসি শুধু সাংবাদিক নন, তিনি বন্যপ্রাণী সংগঠন পাখি প্রেমিক সোসাইটির আহ্বায়ক। তার মতো একজন সচেতনকর্মীর বিরুদ্ধে বিনা তদন্তে মামলা জনমনে পুলিশের ও বন বিভাগের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেবে। মামলার দায়েরকারীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন- “ডিএফও মহোদয়ের নির্দেশে মামলা করেছি। সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল বন পাহারা দেওয়া কঠিন। এজন্য কিছু সেগুন গাছ পাচার হয়ে যেতে পারে।”
তবে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবুল কালাম জানান- “রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ আমার সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করেননি। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন।”
চুনারুঘাট থানার ওসি নুর আলম বলেন- “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে, একজন এসআই তদন্ত করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও জানেন।”
মামুনুর রশিদ নিজেই সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলার প্রধান আসামি ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক। সেই অবস্থায় তিনি কিভাবে মামলা দায়ের করলেন? এমন প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিক মহলে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, সেগুন গাছ পাচারকারীদের রক্ষায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রকৃত অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তারা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD