
সময় ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে আরও অন্তত ১৮ মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত। দেশটির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ সংক্রমণ চলবে। গতকাল ৩০এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) প্রকাশিত দীর্ঘস্থায়ী মহামারি বিশেষজ্ঞদের একটি গবেষণায় দেওয়া হয়েছে এমন ইঙ্গিত।
গবেষণার বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শীতে যুক্তরাষ্ট্রকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ মোকাবিলা করতে হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে তখনকার পরিস্থিতি হবে আরও খারাপ।
ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির (সিডরাপ) পক্ষ থেকে গবেষণাটি করা হয়। গবেষণাটি সিডরাপের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয়েছে। সিডরাপের পরিচালক মাইক অস্থেরহোম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতেই থাকবে।
অস্থেরহোম দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মাহামারির ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাও ছিলেন। গতকাল ৩০এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরিতে মাইক অস্থেরহোম ছাড়াও অংশ নিয়েছিলেন হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের এপিডেমিওলজিস্ট মার্ক লিপস্টিচ, সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের এপিডেমিওলজিস্ট ডা. ক্রিস্টিন মুর এবং ইতিহাসবিদ জন ব্যারি।
করোনাভাইরাস একটি নতুন ধরনের ভাইরাস। ফলে এ ভাইরাসটির বিরুদ্ধে মানুষের শরীরে এখনও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সেক্ষেত্রে গবেষক দলটি জনগণের মধ্যে গণ রোগ প্রতিরোধের (হার্ড ইমিউনিটি) ক্ষমতার বিষয়টি সামনে এনেছেন।
গবেষকরা মনে করেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ১৮ থেকে ২৪ মাস ধরে ছড়াবে। আর এই সময়ের মধ্যে মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠবে।
বর্তমান মহামারিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারির সঙ্গে তুলনা করেছেন সিডরাপের বিশেষজ্ঞরা। গবেষক দলটি প্রস্তাব করেছে, শিগগিরই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে- যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেন মানুষকে এ ধরনের কথা না বলে বেড়ায়। বরং আগামী শীতে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে তার জন্য যেন প্রস্তুতি নেয়।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, আজ ১ মে (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, ৬৩ হাজার ৬ জন। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যাও বিশ্বে সর্বোচ্চ, ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬৪ জন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর দেশটিতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪৭ জন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply