1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 12:27 pm

নবীগঞ্জের সুলতানা হত্যা! এক বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত

Reporter
  • Updated Wednesday, March 3, 2021
  • 412

সংবাদদাতা ॥ নবীগঞ্জের সুলতানা হত্যা মামলার তদন্ত এক বছরেও শেষ করতে পারেনি বড়লেখা থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে প্রধান আসামি জয়নাল চৌধুরী। এ অবস্থায় বড়লেখায় সংঘটিত হওয়া আলোচিত এ হত্যা মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন মামলার বাদী নিহত সুলতানার পিতা রব্বান মিয়া। জানালেন- এক বছর ধরে পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু এখনো তারা তদন্ত রিপোর্ট জমা না দেয়ার কারণে মামলার বিচার শুরু করা যাচ্ছে না। নবীগঞ্জের রাইয়ারপুর গ্রামের রব্বান মিয়ার ছোট মেয়ে সাহিদা আক্তার সুলতানা। আর মামলার প্রধান আসামি জয়নাল আবেদীনের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পানিশাইল গ্রামে। তিনি লন্ডন প্রবাসী। ওখানে তার স্ত্রী ও সন্তানও রয়েছে। মামলার এজাহারে মো. রব্বান মিয়া জানিয়েছেন- তার ছোট মেয়ে সাহিদা আক্তার সুলতানার সঙ্গে লন্ডন প্রবাসী জয়নাল চৌধুরী মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। সম্পর্ক চলাবস্থায় গত বছর জয়নাল চৌধুরী দেশে আসেন। ওই সম্পর্কের কারণে তিনি প্রায়ই সুলতানার সঙ্গে দেখা করতে বড়লেখা থেকে নবীগঞ্জে ছুটে যেতেন। বিষয়টি দৃষ্টিকটু হওয়ায় এক পর্যায়ে রব্বান মিয়া প্রবাসী জয়নালকে তাদের বাড়িতে যেতে নিষেধ করেন। এরপর জয়নাল তার প্রেমিকা সুলতানাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু এতে রাজি হননি রব্বান মিয়া। কারণ- লন্ডনে জয়নালের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ জন্য মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি বিয়েতে রাজি হননি। এদিকে ২০২০ সালে ২৫শে ফেব্রুয়ারি পিতার অজ্ঞাতে ফুসলিয়ে সুলতানাকে নিয়ে যায় জয়নাল। পরে জয়নালই ফোন করে রব্বান মিয়াকে জানায়- তার মেয়ে সুলতানাকে সে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের দ্বারস্থ হন রব্বান মিয়া। বিষয়টি ঝুলে থাকা অবস্থায়ই ২৬শে ফেব্রুয়ারি রব্বান মিয়ার নাতি নয়ন আহমদকে অপহরণ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় জয়নাল। পরে নয়নকেও নিয়ে যাওয়ার কথা মোবাইল ফোনে জানায় জয়নাল। এদিকে- ২৭শে ফেব্রুয়ারি জয়নালের বড়লেখাস্থ বাড়িতে এক মহিলার লাশ পাওয়া গেছে বলে জানতে পারেন রব্বান মিয়া। এতে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবগত করেন। এরপর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তার মেয়ে সুলতানার লাশ জয়নালের ঘরে পাওয়া গেছে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরদিন ২৮শে ফেব্রুয়ারি ভোরে বড়লেখা থানায় গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। কিন্তু তার নাতি নয়ন আহমদের কোনো সন্ধান না পেয়ে ওসিকে অনুরোধ করেন তাকে খুঁজে উদ্ধার করতে। নয়নকে হত্যা করা হতে পারে- এমন সংশয়ে ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য বড়লেখা থেকে অপহৃত হওয়া নয়ন বাড়ি ফেরে। এদিকে- বাড়ি ফেরার পর নয়ন তার খালা সুলতানা হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত ঘটনা জানায় সবাইকে। স্কুল থেকে ফেরার পথে রাস্তায় একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে জয়নালের বড়লেখাস্থ বাড়িতে নিয়ে যায়। ওখানে যাওয়ার পর তার খালার সঙ্গে দেখা হয়। পরে জয়নাল তাকে বেড়ানোর কথা বলে কিছুদূর গিয়ে মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে এসেছে বলে গাড়ি থেকে নেমে যায়। এক ঘণ্টা পর আবারো গাড়িতে এসে তাকে নিয়ে বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে ডাকাডাকির পর জানালা ভেঙে সুলতানাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখতে পায়। এরপর সুলতানার লাশ ঘরে রেখে নয়নকে সঙ্গে নিয়ে জয়নাল কারযোগে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আসে। সেখান থেকে তাকে নিয়ে ঢাকায় যায়। সেখানে একটি হোটেলে নয়ন আহমদকে রেখে জয়নাল চৌধুরী পালিয়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। এজাহারে রব্বান মিয়া উল্লেখ করেন- জয়নাল চৌধুরী তার সঙ্গীয় আসামিদের সহযোগিতায় তার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক মঞ্চস্থ করে এবং নিরাপদে বিদেশ পাড়ি দিতে তার নাতিকে অপহরণ করে। এ ঘটনায় গত বছরের ৩রা মার্চ প্রবাসী জয়নাল চৌধুরীকে প্রধান করে ৫ জনের নামোল্লেখ করে বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন নিহতের পিতা। ওই মামলায় অন্য আসামিরা হলো- বড়লেখার পানিশাইল গ্রামের মৃত মন্তই মিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেন মাতাব, মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে ওয়াহিদ জামাল লিপু, মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে মো. সোয়া মিয়া, উপজেলার ধর্মদেহী গ্রামের মৃত ফিরোজ আলীর ছেলে রহমত আলীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন। এদিকে- ঘটনার এক বছর হতে চললেও বড়লেখা থানা পুলিশ আলোচিত এ ঘটনার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। এরই মধ্যে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা কয়েক দফা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি রয়েছে বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) রতন দেবনাথের কাছে। তিনি গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে ফরেনসিক সব রিপোর্ট চলে এসেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে। তিনি জানান, প্রধান আসামি জয়নাল ছাড়া অন্য আসামিরা আদালতের জামিনে রয়েছেন। মামলার বাদী ও নিহত সুলতানার পিতা রব্বান মিয়া জানিয়েছেন, সুলতানার খুনিদের শাস্তির জন্য আমরা পথ চেয়ে আছি। সুলতানাকে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়ি থেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার নাতিকেও অপহরণ করা হয়েছে। তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD