স্টাফ রিপোর্টার : বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামী ঢাকা মেট্টোপলিটনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ নুরুল আমিনের পদোন্নতি হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ও নিউ মার্কেট এলাকার প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারের মালিক আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলা আসামী নুরুল আমিনকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপাপ্ত) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার নোয়াখালিতে পদায়ন করায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার এই পদায়নকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা যায়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মোঃ নুরুল আমিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হন। এর পূর্বে তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায়ও সম্পাদকীয় পদে ছিলেন। এই সুযোগে পিতা মোঃ মমদু মিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা বানাতে মরিয়া হয়ে উঠেন মোঃ নুরুল আমিন। এক পর্যায়ে সফলও হন। মুক্তিযোদ্ধের ৩৯ বছর পর ২০১০ সলে মোঃ মমদু মিয়া হয়ে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মোঃ মমদু মিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভূক্ত করা হয়। মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক গেজেট নং ১৭১৭, পৃষ্ঠা নং ৭৬৮৪, তারিখঃ ২৫/৭/২০১০ইং। মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান হিসেবে সুযোগ নিতেও ভুল করেননি মোঃ নুরুল আমিন। ২৫/১০/২০১০ইং তারিখে মুক্তযোদ্ধা কোটায় তিনি এএসপি হিসাবে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন। ১৮৩জন বিসিএস ক্যাডার এএসপির মধ্যে মেধা তালিকায় নুরুল আমিনের অবস্থান ১৭৯তম।
অভিযোগ রয়েছে গেজেট প্রকাশের আগেই তিনি কোটায় চাকুরী পেতে আবেদন করে আসছিলেন। ১৯৮৭ সালে বানিয়াচং উপজেলার রায়-মর্দনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী উত্তীর্ণ মোঃ নুরুল আমিন এর চাকুরী প্রাপ্তির সময় ৩০ বছরের অধিক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া বাবা এবং নিজের ছাত্রলীগ এর পদ ব্যবহার করে চাকুরীর শুরু থেকে তিনি ঢাকা সিটিতেই রয়েছেন। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়ে গত ১৫ বছরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পদেরও পাহাড় গড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন তিনি ঢাকার ওয়ারী জোনের এডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ডিবি হেডকোয়ার্টারে বদলী হন। সেই সময় ডিবি প্রধান হারুণের সাথে গড়ে উঠে সখ্যতা। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদের (ভাতের হোটেল খ্যাত ডিবি কার্যালয়ে) যে ৬ সমন্বয়কারীকে আটকে রাখা হয়েছিল তাতে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা ছিল মোঃ নুরুল আমিনের। ছাত্রদের আটকের পর ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদের সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
ইতিমধ্যে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মোঃ মমদু মিয়াকে চিহ্নিত করা, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধাদি ফেরত দেয়া এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী নেয়া পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ নুরুল আমিনকে বরখাস্ত করার দাবী জানিয়ে, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কামন্ডার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বানিয়াচং উপজেলার গানপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরীর পুত্র মোঃ নুরুল আমিন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। উক্ত অভিযোগ এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি একটি তদন্তকারী সংস্থা মুরাদপুর বাজারে গিয়ে মোঃ মমদু মিয়াকে ডেকে এনে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার কাছে কি ডকুমেন্ট আছে জানতে চাইলে প্রকাশ্যে মোঃ মমদু মিয়া জানান- এসব বিষয় তার পুত্র নুরুল আমিন জানে। তিনি এর কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে অভিযোগকারীসহ এলাকার ভূক্তভোগীরা বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে মমদু মিয়াকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দিয়ে এবং পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরেধী ছাত্র আলোলনের সময় ঢাকা নিউ মার্কেট থানাধীন নিলক্ষেত মোড়ের পশ্চিম পাশে নিউমার্কেট ১নং গেইট এর সামনে পাকা রাস্তার উপর পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের হামলায় নিউমার্কেট এলাকার প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারের মালিক আব্দুল ওয়াদুদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মারা যান। এ ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকার পলাশী সরকারী কলোনীর বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদ এর শ্যালক মোঃ আব্দুর রহমান বাদী হয়ে গত ২১ আগস্ট ঢাকা নিউমার্কেট থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল আমিনকে ৪২ নাম্বার আসামী করা হয়। যেখানে বর্তমান অন্তর্বতীকালিন সরকার সব সেক্টরে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে সেখানে একজন হত্যা মামলার আসামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিরোধী ব্যক্তি নুরুল আমিনকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপাপ্ত) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার নোয়াখালিতে পদায়নের বিষয়টি শোনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী বিষ্মিত হয়ে পড়ে। বানিয়াচঙ্গসহ জেলাবাসী নুরুল আমিনের পদোন্নতি বাতিল করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানান।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply