
এস.এম সুলতান খান, চুনারুঘাট : চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নের করাঙ্গী নদীতে নির্মিত রাবারড্যামটি এক যুগ ধরে অচল পড়ে আছে। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালে নির্মিত ২৫ মিটার দীর্ঘ এই ড্যামটি মাত্র দুই বছর ব্যবহারের পরই অকেজো হয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষকরা এটিকে আক্ষেপ করে “মরা তিমি” বলে অভিহিত করেন।
প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল শুষ্ক মৌসুমে করাঙ্গী নদীর পানি আটকে রেখে এলাকার সহস্রাধিক কৃষককে সেচ সুবিধা দেওয়া। কিন্তু রাবারড্যামটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আশেপাশের প্রায় ১০-১২টি গ্রামের অন্তত ৪২০ হেক্টর জমি প্রতিবছর অনাবাদি পড়ে থাকছে। এতে করে বোরো মৌসুমে পানির অভাবে বিপাকে পড়েছেন এলাকার হাজারো কৃষক।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, “ড্যামটা ভালো থাকাকালে সেচে কোনো সমস্যা হতো না। এখন পাম্প বসিয়ে চাষাবাদ করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, যা আমাদের পক্ষে বহন করা কঠিন।”
কৃষক মাসুম মিয়ার অভিযোগ, “জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচ পাম্প চালিয়ে খরচ মেটানো সম্ভব নয়। অথচ ড্যামটি ঠিক থাকলে সহজেই পানি পাওয়া যেত।”
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমাংশু দেবনাথ জানান, রাবারড্যাম সচল থাকলে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, “এভাবে বছরের পর বছর ড্যামটি পড়ে থাকায় অনেক কৃষক জমি আবাদ থেকে বিরত থাকছেন।”
রাবারড্যামের তত্ত্বাবধায়ক বাচ্চু মিয়া বলেন, “ড্যামের ওপরের কভার ফেটে গেছে, ভেতরের টায়ারও নষ্ট। সবকিছুই অকেজো হয়ে পড়েছে বলে রাবার আর ফোলানো যাচ্ছে না।”
এলজিইডির প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, তিনি ইতোমধ্যে ড্যামটি পরিদর্শন করে জেলা অফিসকে জানিয়ে দিয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম আশ্বাস দিয়ে বলেন, “রাবারড্যামটি দ্রুত সংস্কার করে সচল করা হবে।”
২০১১ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর কৃষকের মধ্যে সেচ খরচ কমে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। শাকসবজি ও ধান উৎপাদন বাড়ে, মাছ চাষেও সাফল্য আসে। কিন্তু ড্যামটি বিকল হয়ে যাওয়ার পর সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। এখন তারা চাইছেন, স্থায়ী সমাধান।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply