1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 8:03 am

বাহুবলে ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব

Reporter
  • Updated Sunday, May 25, 2025
  • 121

ছাদিকুর রহমান, বাহুবল : বাহুবল উপজেলায় ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিস ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে তীব্র চুলকানি, ফুসকুড়ি ও গুটি দেখা দিচ্ছে, যার ফলে তারা রাতে ঘুমাতে পারছেন না এবং তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন।
জানা গেছে, উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নে স্ক্যাবিস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। স্ক্যাবিস রোগ হয় সারকপটেস স্কাবাই নামের এক ক্ষুদ্র পরজীবীর কারণে, যা মানুষের চামড়ার নিচে বাসা বেঁধে সংক্রমণ ঘটায়। রোগ প্রতিরোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার অভাবে একের পর এক পরিবারের সদস্যরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসালয়ে চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে চর্মরোগে চিকিৎসা নিতে আসা প্রায় ৭০ শতাংশ রোগী স্ক্যাবিসে আক্রান্ত।
শুরুতে শিশুদের মধ্যে রোগটি দেখা গেলেও বর্তমানে সব বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা বা তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেমন কাপড়, গামছা, তোয়ালে, বিছানার চাদর, বালিশ ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়াতে পারে।
স্ক্যাবিস হলে সারা শরীরেই চুলকানি দেখা দেয়। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক, নাভি, বগল, যৌনাঙ্গ, নিতম্ব, কনুই, হাতের তালু ও কবজিতে চুলকানি বেশি হয়। রাতে এই চুলকানি আরও বেড়ে যায়। ফুসকুড়ি থেকে তরল পদার্থ বের হয়, যা রোগের তীব্রতা বাড়ায়। গরমকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ঘাটতি থাকলে রোগের প্রকোপ আরও বাড়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাহুবল উপজেলার বাসিন্দা সৌরভ মিয়া জানান, “প্রায় এক মাস ধরে সারা শরীরে চুলকানিতে ভুগছি। ফার্মেসি থেকে ওষুধ খেয়েছি, মলম ব্যবহার করেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। অবশেষে হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখালাম। তিনি স্ক্যাবিস রোগ নির্ধারণ করে ওষুধ ও নিয়মকানুন দিয়েছেন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মিজানুর রহমান শাহীন বলেন, “প্রতিদিনই আমাদের হাসপাতালে স্ক্যাবিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ছোট-বড় সবাই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে দ্রুত অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাচ্চাদের কুসুম গরম পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করাতে হবে, ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে এবং অ্যালার্জি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি লিকুইড জাতীয় খাবার বেশি খাওয়াতে হবে।”
চিকিৎসকদের পরামর্শ, স্ক্যাবিস প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মকানুন মেনে চললে মাত্র দুই সপ্তাহেই এই রোগ থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD