
শেখ জাহান রনি, মাধবপুর : মাধবপুর উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক ফারুক মিয়াকে (৪৫) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বহরা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মো. নাজির আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে রুবেল (৩২) এবং বুল্লা ইউনিয়নের মৃত মতি লাল কর্মকারের ছেলে বিধান কর্মকার (৩৫)।
গতকাল শনিবার (২৪ মে) বিকেলে মাধবপুর থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে, তারা হবিগঞ্জের বিচারিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ হত্যাকাণ্ডের শিকার কৃষক মো. ফারুক মিয়া হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের আফজালপুর গ্রামের মৃত ছায়েব আলীর ছেলে।
শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে মনতলা কলেজের পূর্বদিকে দিঘীরপাড় এলাকায় বাঁশঝাড়ের মধ্যে একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মনতলা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটি ফারুক মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের ছেলে আতিকুল ইসলাম জানান, গত ১৩ মে বিকেলে ফারুক মিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে মনতলা বাজারে গেলে আর ফিরে আসেননি। পরদিন ১৪ মে তিনি মাধবপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা মনতলা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই অনজন কুমার তালুকদার নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালাতে থাকেন। এরপর শুক্রবার দিঘীরপাড়ের বাঁশঝাড় থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পাওনা টাকা নিয়ে পূর্ব বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।”
নিহত ফারুকের ছেলে আতিকুল ইসলাম তার পিতার হত্যাকাণ্ডের জন্য পূর্ব বিরোধকে দায়ী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পুলিশ হত্যার পেছনের অন্য কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply