
লাখাই প্রতিনিধি : লাখাই উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়নের লাখাই বাজার থেকে বামৈ পর্যন্ত ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাব-মার্জিবল সড়কটি বর্ষা মৌসুম এলেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিবছর টানা ৪ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত এই রাস্তায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বছরের শুকনো মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে লাখাই থেকে বামৈ যাতায়াতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু বর্ষার সময় পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সেই একই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি, এবং যাতায়াত খরচও দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে।
সড়কটির গুরুত্ব কেবল লাখাই ইউনিয়নের জন্য নয়, এটি পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষের যাতায়াতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বর্ষায় এই রাস্তাটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষাকালে আমাদের রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আমরা লাখাইবাসী অনেক বিপাকে পড়ি। বিশেষ করে আমাদের মা-বোনেরা যদি গর্ভাবস্থায় অসুস্থ হন, তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের নৌকা দিয়ে পার হতে হয়, আর তাতে দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকে যায়।”
লাখাই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে হাওর ও বিলবেষ্টিত সদর ইউনিয়নটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্রতিবছর বর্ষায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে অনেক সময় সকালে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অথচ মাত্র ৬ কিলোমিটার সড়ক উঁচু করে নির্মাণ করলেই এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটিকে সারাবছর চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা আশা করছেন, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে লাখাই-বামৈ সড়কটি টেকসইভাবে উন্নয়ন করবেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply