স্টাফ রিপোর্টার : আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সৌলরী গ্রামের আনিস চৌধুরী জেলা শ্রমিকদলের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা শ্রমিকদলের এই অনুষ্ঠানে আনিস চৌধুরীর উপস্থিতি নিয়ে বিএনপির মধ্যে নতুন করে অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, আনিস চৌধুরী একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ কর্মী, যিনি অতীতে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে শ্রমিকদলের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখে নেতাকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
৪নং কাকাইলছও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক খান বলেন, “আনিস চৌধুরী কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। গত জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। আমরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির জন্য সংগ্রাম করছি, এমন লোকদের দলের মধ্যে দেখে আমরা বিরক্ত।”
অন্যদিকে, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন আহমেদ বলেন, “আনিস চৌধুরী বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের সাথে থেকে নানা সুবিধা নিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট বলেছেন, কেউ ১০ মিনিটও আওয়ামী লীগ করলে তাকে বিএনপিতে গ্রহণ করা হবে না। তাই এমন কাউকে দলের মধ্যে নেওয়া বেইমানি হিসেবে গণ্য হবে।”
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোশারফ হোসেন বাবুল বলেন, “আমরা গত সতের বছর অনেক নির্যাতন সয়েছি। কিন্তু সতের বছরেও আনিস চৌধুরীকে বিএনপির কোনো প্রোগ্রাম দেখি নি। বরং আওয়ামী লীগের সময় বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে দেখেছি।”
হবিগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বজলুর রহমান বলেন, “আমি ছবিও দেখেছি, একজন স্পষ্ট আওয়ামী লীগ কর্মী শ্রমিক দলের অনুষ্ঠানে এসেছেন, যা আমাদের দলের আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নেতৃবৃন্দ সজাগ থাকবেন বলে আশাবাদী।”
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল আলম বলেন, “আমার জানা মতে আনিস চৌধুরী বিএনপি কখনো করেননি। তবে শ্রমিক দলের কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বলে শুনেছি। দলের নীতি ও আদর্শ রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
স্থানীয় নেতারা বলছেন- দলের মধ্যে এই অনুপ্রবেশের প্রবণতা বন্ধ না হলে, ত্যাগী কর্মীরা হতাশ হবে। তাই এমন বিতর্কিত ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়েই শুধু নয়, তাকে উৎসাহ দিচ্ছে কারা তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply