1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 7:50 am

কালনী-কুশিয়ারার ভাঙন আতঙ্কে কয়েক গ্রামের হাজারো পরিবার

Reporter
  • Updated Thursday, June 5, 2025
  • 133

স্টাফ রিপোর্টার : কালনী ও কুশিয়ারা নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের সৌলরী, মনিপুর ও কালনীপাড়া গ্রামের শত শত পরিবার। ইতিমধ্যে বহু ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী।
সৌলরী গ্রামের বাসিন্দা বাবুল সূত্রধর আঙুল তুলে দেখালেন তার ভেঙে যাওয়া বাড়ির জায়গা। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাপ-দাদার ভিটে অনেক বড় ছিল, প্রায় সবটাই নদীতে চলে গেছে। যেটুকু আছে, তাও যে কোনো দিন ভেঙে যাবে। রাতে ঘুম হয় না। প্রতিদিন একটু একটু করে কমছে আমাদের জমি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু বাবুল সূত্রধরই নন—রঞ্জিত, মনোরঞ্জন, অধীর, সুজিত, অভিনাস, অরবিন্দ, যামিনি, মতিন্ড, রমাকান্ত, গৌতম, সুশেন, লবু, ভূষেনসহ দুই শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন বা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
রেখা রাণী সূত্রধর জানান, মাত্র দুইদিন আগেই তার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা গরীব মানুষ, আমাদের দেখার কেউ নেই। আশ্রয়ের বাড়িটাও যেকোনো সময় নদীতে ভেঙে পড়তে পারে।”
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, মাঝে মাঝে সরকারি কর্মকর্তারা এলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রঞ্জিত সূত্রধর বলেন, “আগের জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন। বাস্তবে কেউ এগিয়ে আসেননি।”
জানা যায়, ২০২১ সালে অস্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কুশিয়ারা নদীর তীরে ২০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়, যার ব্যয় ছিল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ওই ব্যাগগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে আগের চেয়ে ভাঙন বেড়েই চলছে।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিবিড় রঞ্জন তালুকদার বলেন, “সৌলরী বাজার, মণিপুর, বদরপুর ও কালনীপাড়ায় ভাঙনের তথ্য পেয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছে। আপৎকালীন জরুরি নদী তীর সংরক্ষণ কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। স্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য ডিজাইন ও ইস্টিমেট প্রস্তুত করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেছেন, “বাঁশের আড়া বা সাময়িক কিছু হলেও হলে সাহস পেতাম। এভাবে চললে গ্রামের চিহ্নই থাকবে না।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD