1. dailyhabiganjshomoy@gmail.com : shomoy2017 : দৈনিক হবিগঞ্জ সময়
September 13, 2026, 11:37 am

স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে এক করে দেখলে চলবে না ॥ রাষ্ট্রপতি এটা রক্তের সম্পর্ক, কেউ ভাঙতে পারবে না ॥ মোদি

Reporter
  • Updated Saturday, March 27, 2021
  • 290

সময় ডেস্ক ॥ দেশের নাগরিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের একক দায়িত্ব নয়। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। স্বাধীনতা মানুষের অধিকার, তবে স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে ‘এক করে দেখলে চলবে না’- সেটিও মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি। আরও বলেন, অধিকারকে অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয়ে ওঠে। আবার অধিকারের অপপ্রয়োগ স্বাধীনতাকে খর্ব করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে দশ দিনব্যাপী আয়োজিত ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানের শেষ দিনে শুক্রবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের ও সম্মানের। কারণ ১৯৭১ সালে মার্চের এই দিনের প্রথম প্রহরেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এই স্বাধীনতা একদিনে বা হঠাৎ করে আসেনি। অনেক ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে, অর্থাৎ স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একইসঙ্গে দেশটির সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মর্যাদাপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি বলেন, গৌরব ও ত্যাগের অনুপম বীরত্বগাথা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। আমরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জনকারী জাতি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে আমরা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সুবর্ণ আলো দেখতে পাই। জাতির জনকের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাব- মুজিব জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভক্ষণে এটাই হোক সবার চাওয়া-পাওয়া।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাদের জীবন উৎসর্গের বিষয়টি তুলে ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এ সম্পর্ক রক্তের। এটা কেউ ভাঙতে পারবে না। গতকাল শুক্রবার বিকেল জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামী আর ভারতীয় সেনাদের রক্ত এক বয়েছে। এটি এমন এক সম্পর্ক যা কোনোভাবেই ভাঙবে না। কোনো কূটনীতির শিকার হবে না। ‘এ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর আর ভারতের ৭৫ বছর এক সঙ্গেই এসেছে। এই দুই দেশের জন্যই একবিংশ শতকের আগামী ২৫ বছর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ এক। মনে রাখতে হবে, ব্যবসা বাণিজ্যে যেখানে আমাদের সম্ভাবনাগুলো একই রকম, সেখানে সন্ত্রাসবাদের সংকটও একই রকম।’মোদি জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া ভারতীয় সেনাদের অনেকেই তার সফরে সঙ্গী হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম তার জীবনের প্রথম আন্দোলনগুলোর একটি বলেও জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। ‘অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে একটা বিষয় মনে করিয়ে দেব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম আমার জীবনের প্রথম আন্দোলনের একটি। আমার বয়স তখন ২০-২২ হবে। তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সত্যাগ্রহ করেছিলাম। আন্দোলনের সমর্থন থাকায় গ্রেপ্তারও হয়েছি, জেলেও গিয়েছি।’ মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যতটা ক্ষুধা এখানে ছিলো, ততটা ওখানেও (ভারতে) ছিলো। পাকিস্তানি সেনারা যে জঘন্য অপরাধ করেছিলো তার ছবি দেখে কয়েক রাত পর্যন্ত ঘুমাতে পারতাম না।’ এ সময় বাংলায় ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলবো না’ আবৃত্তি করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানের নিপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরে মোদি বলেন, ‘একটি সরকার নিজের নাগরিকদের হত্যা করছিল। তাদের পরিচয়কে মুছে ফেলার চেষ্টা করছিল। অপারেশন সার্চ লাইটের বিষয়ে বিশ্ব ততটা আলোচনা করেনি, প্রকৃতপক্ষে যতটা হওয়া উচিত ছিল। ‘বাংলাদেশিদের আশার আলো ছিল বঙ্গবন্ধু। তার সাহস তার নেতৃত্ব এটা নিশ্চিত করেছিল যে, কোনো শক্তি বাংলাদেশকে গোলাম বানিয়ে রাখতে পারবে না।’ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অংশ বিশেষ তুলে ধরে মোদি বলেন, “তিনি বলেছিলেন ‘এবারের সংহগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তার নেতৃত্বে এখানকার সব অবাল বৃদ্ধ বনিতা একসঙ্গে মুক্তিবাহিনী তৈরি করে। এজন্যই আজ তার আদর্শ মনে রাখার দিন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সমর্থন ও সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন আবদুল হামিদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2017 dailyhabiganjshomoy.Com
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD