,

নবীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনের নামে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। সংশ্লিষ্ট স্কুলের পরীক্ষার্থী ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে উপজেলায় লক্ষ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ফি আদায়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড ফি ১৫ শ ৫ টাকা ও কেন্দ্র ফি ৪ শ ৬৫ টাকা মোট ১৯ শ ৭০ টাকা, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বোর্ড ফি ১৪শ ১৫ টাকা, কেন্দ্র ফি ৪শ ৩৫ টাকা মোট ১৮ শ ৫০ টাকা এবং মানবিক বিভাগে বোর্ড ফি ১৪শ ১৫ ও কেন্দ্র ফি ৪শ ৩৫ টাকা মোট ১৮ শ ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২০ সালে নবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩৩টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশ গ্রহন করবে। এর মধ্যে স্কুল ১৮ ও মাদ্রাসা ১৫টি রয়েছে। প্রায় প্রতিষ্টানে আগামী ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরনের নামে কোচিংসহ নানা খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দ আজিজ হাবিব উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রতিজনের কাছ থেকে ৪ হাজার ১ শত টাকা, পানিউমদার রাগিব রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজে ৪ হাজার, ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ৩ হাজার ৬ শত টাকা, আউশকান্দি র.প স্কুল এন্ড কলেজে ৩ হাজার ৫ শ টাকা, হাজী আঞ্জব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ হাজার, বাগাউরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৬ শ টাকা, নহরপুর শাহজালাল (রাঃ) দাখিল মাদ্রাসায় ৩ হাজার ৫ শ টাকা ফি নেয়া হচ্ছে। এদিকে নবীগঞ্জ শহরতলীর জে.কে মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ও হীরা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরনের সময় ২ হাজার ১ শত টাকা নেয়া হয়েছে এবং কোচিং এর জন্য পরবর্তীতে ১ হাজার ৫ শত টাকা করে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। অতিরিক্ত ফি দিতে হিমশীম খাচ্ছেন অভিভাবকরা। আবার অনেকেই তাদের ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত শিক্ষা জীবনের কথা চিন্তা করে দার-দেনা করে টাকা করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন- শিক্ষকরা টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেননা। গরীব মানুষ পরের ক্ষেতে কামলা খেটে/ভ্যান-রিকসা ঠেলে সন্তানকে লেখাপড়া করাই। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে শিক্ষকরা। তাদের চাহিদা মেটাতেই আমাদের রুজি করা টাকা তুলে দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের হাতে। অভিভাবক সেজে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা উল্লেখিত টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এ ব্যাপারে পানিউমদার রাগিব রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফি কত টাকা তিনি জানেনা বলে কল কেটে দেন। সাংবাদিক পরিচয়ে সরেজমিনে গেলে ফি আদায়কারী শিক্ষকরা জানান ম্যানিজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তারা পরীক্ষার ফি বাবদ ২ হাজার ১ শত টাকা ও কোচিং ফি বাবদ ২ হাজার টাকা নিচ্ছেন। অভিভাবক সেজে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা উল্লেখিত টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এ ব্যাপারে পানিউমদার রাগিব রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফি কত টাকা তিনি জানেনা বলে কল কেটে দেন। সাংবাদিক পরিচয়ে সরেজমিনে গেলে ফি আদায়কারী শিক্ষকরা জানান ম্যানিজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তারা পরীক্ষার ফি বাবদ ২ হাজার ১ শত টাকা ও কোচিং ফি বাবদ ২ হাজার টাকা নিচ্ছেন। অভিভাবক সেজে সৈয়দ আজিজ হাবিব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুক্লা বৈদ্যর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ফরম ফি বাবদ ২ হাজার ৩০ টাকা ও কোচিং বাবত ২ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য বলেন। ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন ৩ হাজার ৬ শ টাকা নিয়ে আসেন। আউশকান্দি র.প স্কুলের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফি কত জানেন না বলে ফোন রেখে দেন। এদিকে হাজী আঞ্জব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানু মিয়ার সাথে অভিভাবক সেজে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফি‘র কথা জানতে চাইলে সরাসরী স্কুলে গিয়ে জানার জন্য। এ কথা বলে তিনি পাশে থাকা বিদ্যালয়ের এক ম্যানিজিং কমিটির সদস্যের কাছে ফোন ধরিয়ে দেন। নহরপুর দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফরম পূরনের ফি ২ হাজার ৫ শ টাকা। কোচিং এর টাকা আলাদা তা সরাসরি গিয়ে জানার জন্য বলেন। সঈদপুর বাজার ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ আলী আক্কাছ মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফরম পূরনের ফি ২ হাজার ১ শ টাকা এবং কোচিং বাবদ ৪ শত টাকা। এছাড়া অনেক গরীব শিক্ষার্থীকে ফ্রি ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাজিয়া মোবাশ্বিয়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন জানান ২ হাজার ২ শত টাকা ফরম পূরনের ফি নেওয়া হয়েছে। মোস্তফাপুর আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুন নূর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থাভেদে ফরম ফি বাবদ ২ হাজার ৫ শত থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আড়াইমাসে কোচিং বাবদ ৭ শত টাকা করে নেয়া হয়েছে। দারুল হিকমাহ জামেয়া ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফরম পূরনের ফি দুই হাজার টাকা করে নেয়া বলে জানান। রুস্তমপুর দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ সাজ্জাদুর রহমান জানান সরকার নির্ধারিত ফি যা তা নেয়া হয়েছে এবং কোচিং এর ক্ষেত্রে আলাদা ফ্রি নেওয়া হবে। মুকিমপুর রশিদিয়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে ফরম ফি’র বিষয়টি জানাতে রাজি হননি সরাসরি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বলেন। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাদেক হোসেন বলেন কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার টাকা, মানবিক ও অন্যান্য বিভাগে ১৯ শত টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ ধরনের কোন অভিযোগ তাদের কাছে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


     এই বিভাগের আরো খবর