বাহুবল উপজেলার হরিতলা, মিরপুর, কামাইছড়া, নতুন বাজার, মহাশয়ের বাজার বশিনা, লামাতাসী, দক্ষিণ হিলালপুর, ফতেহপুর, শেওড়াতুলী, উত্তরসূর, পুরান মৌড়ি, শংকরপুর ও কালাখারৈলসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে অবাধে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক শূন্যতা ও দুর্বল নজরদারির সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র ফসলি জমি, টিলা ও সরকারি খাস জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে আসছে।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রতিদিন রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত একাধিক এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে ভরে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদী ও খালসংলগ্ন এলাকা থেকেও বালু উত্তোলন চলছে। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। কৃষিজমি, টিলা, নদী, খাল-বিল বা সরকারি জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে এক্সকাভেটরসহ ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও প্রশাসনের রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারী ট্রাক ও ডাম্পারের অতিরিক্ত চলাচলে গ্রামের কাঁচা ও পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ইটের সলিং উঠে গেছে, আবার কোথাও সড়কের পাশ ধসে পড়েছে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
উর্বর কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উঁচুনিচু অবস্থা তৈরি হচ্ছে এবং নষ্ট হচ্ছে টপ সয়েল বা উর্বর মাটি। ফলে আগামী মৌসুমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েকজন কৃষক জানান, জমি ভাড়া দিয়ে সাময়িকভাবে লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
দিন-রাত ট্রাক চলাচলের কারণে চারদিকে ধুলাবালির আস্তরণ জমছে। বাতাসে উড়ছে সূক্ষ্ম বালুকণা, যা শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বসতবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধুলায় ঢেকে যাচ্ছে। ছোট যানবাহন, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে উর্বর কৃষিজমি এবং হুমকির মুখে পড়ছে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। দীর্ঘমেয়াদে এটি বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাহবুবুল ইসলামের একযোগে বদলির আদেশ জারি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ এক্সকাভেটর জব্দ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং ফসলি জমি রক্ষায় কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্র ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইন প্রয়োগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply