নবীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেবপাড়া নয় মৌজা ঈদগাহ মাঠে পরকীয়া প্রেমিক যুগলকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। গত শনিবার সন্ধ্যার আগে এ ঘটনা ঘটে।
সূত্রে জানা যায়, ঈদগাহ মাঠের তিনটি প্রবেশপথে সতর্কীকরণ নোটিশ টানানো থাকা সত্ত্বেও মৌলভীবাজারের আঠানগিরি এলাকার আর্জেন্টিনা সমর্থক আনোয়ার আলীর ছেলে বাবুল আহমদ এবং পানিউমদা এলাকার রুবেলের স্ত্রী পরিচয়দানকারী এক নারী সেখানে আসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা টিকটক ভিডিও ধারণের আড়ালে অনৈতিক উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি ওই এলাকার সালিশ বিচারক কাপ্তান মিয়াকে অবগত করলে তার উদ্যোগে উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে ওই নারী এবং যুবককে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয় বলে জানা যায়। এই ঘটনাটি ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দেবপাড়া নয় মৌজা ঈদগাহ মাঠকে ঘিরে অতীতেও টিকটক ও ফেসবুক রিলস ভিডিও নির্মাণের ঘটনা নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদগাহ মাঠে ধারণ করা কয়েকটি নাচ-গানের ভিডিও ভাইরাল হলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, যুবসমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঈদগাহ মাঠটি একটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মাঠের চারপাশে রয়েছে স্থানীয়দের কবরস্থান। তাই এ স্থানে টিকটক, রিলস বা আপত্তিকর আচরণ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং পবিত্র পরিবেশ নষ্ট করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু তরুণ-তরুণী ঈদগাহ মাঠে এসে টিকটক ভিডিও ধারণ ও অন্যান্য অনাকাঙ্খিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে একই ধরনের অভিযোগে কয়েকজন নারী-পুরুষকে আটক করে পরিবারের সদস্যদের ডেকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি আবারও এমন ঘটনা বাড়তে শুরু করেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, ঈদগাহ মাঠের পবিত্রতা ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে তারা মনে করেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply