,

হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গায় ঘুরছে চশমাপরা ২শ হনুমান

সংবাদদাতা ॥ সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি ‘চিরহরিৎ’ বনে বিরল প্রজাতির ‘চশমাপরা হনুমানের’ বসবাস। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা টিমের জরিপে এই তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুন নাহারের তত্ত্বাবধানে গঠিত দলটি গত দু’বছর ধরে ‘চশমাপরা হনুমান’ নিয়ে গবেষণা করছে। গবেষণার অংশ হিসেবে এই দল সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কয়েকটি ‘চিরহরিৎ’ বনে জরিপ চালায়। জরিপ শেষে দলটি জানায়, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পাঁচটি বনে ৩৬টি দলে ৩৭৬টা বিরল এ প্রজাতির হনুমান বসবাস করে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হনুমান দেখা গেছে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। সেখানে ১০টি দলে মোট ১২৬টি চশমাপরা হনুমানের দেখা পায় গবেষণা দলটি। এরপরেই বেশি উপস্থিতি দেখা গেছে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া সংরক্ষিত বনে। এছাড়াও মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল বনে আনুমানিক ৩০-৩৫টি চশমাপরা হনুমান আছে বলে গবেষক দলটি জানিয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে- চশমাপরা হনুমান আকারে অনেক ছোট। এদের দেহের তুলনায় লেজ বড় হয়ে থাকে। শরীরের দৈর্ঘ্য হয় সাধারণত ৫৩ সেন্টিমিটার, লেজের দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ৭৬ সেন্টিমিটার। গায়ের লোমের রং মেটে বাদামি থেকে কালচে বাদামি। পেট আর বুকের রং সাদাটে। চোখের চারপাশের লোম সাদা রঙের হয়ে থাকে বলেই মনে হয় চশমা পরে আছে। মুখের রংও হয় সাদা। প্রাপ্তবয়স্ক চশমাপরা হনুমানের মাথার লোম বেশ বড় হয়, দেখলে পরচুলা পরে আছে বলে মনে হয়। হাত-পায়ের রং কালো হয়ে থাকে। বাচ্চা রং হয় সাদা, গোলাপি আর বাদামির মিশ্রণে। অন্য হনুমানের চেয়ে এরা লাজুক প্রকৃতির। দিনের বেলায় ঘন বনের ছায়াযুক্ত স্থানে বিচরণ করতে পছন্দ করে। সহজে এরা মাটিতে নামে না। এরা দল বেঁধে চলাফেরা করলেও সহসা এদের চোখে পড়ে না। দলে বাচ্চাসহ সাত-আটটি হনুমান থাকে একটি পুরুষ হনুমানের নেতৃত্বে। তবে দলে কোনো পুরুষ হনুমান দলপতি হবার যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে উঠলে বিদ্যমান পুরুষ দলনেতা অনেক সময় নেতৃত্ব বজায় রাখতে মা হনুমানকে দ্রুত ঋতুমতি করার জন্য বাচ্চাদের মেরে ফেলে। এই পরিকল্পনায় আগের দলপতির বংশ নাশের একটি পরিকল্পনাও থাকে এই হত্যাকান্ডে। চশমাপরা হনুমান গাছের কচি পাতা, ফুল, ফল, বীজ, কীটপতঙ্গ, পাখির ডিম খেয়ে জীবনধারণ করে। পানির চাহিদা মেটাতে এরা শিশির লেগে থাকা পাতা চাটে অথবা পানিবহুল লতাগুল্ম খায়।


     এই বিভাগের আরো খবর