
সময় ডেস্ক : দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে সরকারের সাত হাজার ৮২২ কোটি তিন লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। তিনি আরো জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোবাইল অপারেটর কম্পানিগুলো সরকারকে তিন হাজার ১৭৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করেছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শহিদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী জানান, মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে বকেয়ার পরিমাণ সাত হাজার ৬৯২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়ার রয়েছে গ্রামীণফোনের কাছে ছয় হাজার ১০১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে বাংলালিংকের কাছে ৮৮০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, রবি আজিয়াটার কাছে ৫৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং সিটিসেলের কাছে ১৭০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া টেলিটকের কাছে বকেয়া রয়েছে ১২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
একই প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার জানান, টেলিটকের থ্রিজি স্পেকট্রাম অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ এক হাজার ৫৮৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ইক্যুইটিতে কনভার্সনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি এবং স্পেকট্রাম চার্জ বাবদ ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা, রেভিনিউ শেয়ার বাবদ ৪৩ কোটি ৮১ লাখ ও এসওএফ (এসওএফ) বাবদ বকেয়া ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকাসহ মোট ১২৭ কোটি ৩৬ কোটি টাকা আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, বর্তমানে সর্বোচ্চ কলরেট দুই টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা। প্রচলিত মোবাইল কলরেট মার্কেট পর্যালোচনা ও আর্থ-সমাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আপতত কলরেট পুনর্র্নিধারণের কোনো পরিকল্পনা নেই। একই প্রশ্নের জবাবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, মোবাইল অপারেটগুলোকে একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজ বা অফার বা বান্ডেলে অন-নেট এবং অফ-নেটের ভয়েস কলের ক্ষেত্রে ট্যারিফের মধ্যে প্যাকেজ ডিজাইন করতে হয়। সর্বোচ্চ কলরেট দুই টাকা হলেও অপারেটরগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এক টাকা মিনিটের কম রেটে বিভিন্ন প্যাকেজ ডিজাইন করে থাকে।
Designed by: Sylhet Host BD