নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় শেরখাই ও নরখাই নদীর খননকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জাইকা অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, নদী দুটির মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট খনন করে প্রকল্পের মাটি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বিধান অনুযায়ী প্রায় ১০ ফুট গভীর করে খনন, নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ এবং শতাধিক শ্রমিক নিয়োগের কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে জানান এলাকাবাসী।
একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সামনে বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পানির মধ্যে খননের বিল বেশি দেখানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ ধীরগতিতে করা হচ্ছে।
সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের ছবি তোলা ও লাইভ ভিডিও করতে বাধা দেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট শাহান চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা যাবে না। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাদিক মিয়া অভিযোগ করেন, প্রকল্পের জন্য যে সমিতি গঠন করা হয়েছে তা “লোক দেখানো”। সামান্য খনন করে বড় অঙ্কের বিল তোলা হচ্ছে। তার ভাষ্য, “২/৩ ফুট খনন করে কোটি কোটি টাকার বিল তোলা হচ্ছে। নবীগঞ্জ প্রকৌশলী অফিস কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িত।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ ও মানববন্ধন করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
আরেক বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, “নদী দুটিকে যদি কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ হাত গভীর করে খনন করা হতো, তাহলে এলাকাবাসীর উপকার হতো। এখন যেভাবে কাজ হচ্ছে, এক মৌসুমেই ভরাট হয়ে যাবে।”
এলাকার মুরব্বি মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, “নদী খননের মাটি পাশে রাখার কথা থাকলেও তা বিক্রি করা হচ্ছে। ২/৩ ফুট খনন করে কোনো লাভ নেই। এটি প্রকৃত নদী খনন নয়, যেন শুধু প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে।”
প্রকল্পের সভাপতি খালেদ হাসান দোলন বলেন, কাজটি টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হলে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস দেখবে। তিনি স্বীকার করেন, সমিতির অফিস পরিচালনার জন্য কিছু কমিশন নেওয়া হয়েছে। তবে মাটি বিক্রির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, “আমি সভাপতি হলেও কাজ ঠিকাদার ও প্রকৌশলী অফিস করছে। অনিয়ম হলে তারা জবাব দেবে।”
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী সিরাজ মোল্লা বলেন, তারা কাজ তদারকি করছেন। কোনো অনিয়ম হলে তা খতিয়ে দেখা হবে। বিস্তারিত জানতে অফিসে যোগাযোগ করার জন্য বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে প্রকল্পটি গ্রহণের পরও এ নিয়ে একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি পুনরায় খননকাজ শুরু হয়েছে। ফলে প্রকল্প ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে নদী খননের প্রকৃত সুফল জনগণ পেতে পারে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply