মাদকের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা; পারিবারিক মূল্যবোধ/ নৈতিক সুশিক্ষা; সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশ; খেলাধুলার ব্যবস্থা/ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা; কর্মসংস্থান বৃদ্ধি; আইনের অনুশাসন এবং কঠোর প্রয়োগ; মাদকের অবৈধ সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটা জায়গায় কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে, আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার এবং দেশপ্রেম প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সংগঠন ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইন-এর আয়োজনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে যথাক্রমে মে ১৭-৩১ এবং জুন ২০-২৬ পৃথক সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাদকের অপব্যবহার রোধে ক্যাম্পেইন কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে । খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইন’র ক্যাম্পাস প্রতিনিধি শুভ্র কুমার ঘোষ সহপাঠী এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পেইন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
ক্যাম্পেইন কর্মসূচি উদ্বোধনীতে শুভ্র কুমার ঘোষ বলেন, আমরা তরুণদের মাদক বর্জন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি যা জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়। আমরা একসাথে একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি। আসুন আমরা ইতিবাচক আদর্শ হয়ে উঠি ও অন্যদেরকে আসক্তির পরিবর্তে জীবন বেছে নিতে এবং মাদক সেবনের প্রকৃত বিপদ সম্পর্কে বুঝতে অনুপ্রাণিত করি। সুস্থ, সবল এবং মাদকমুক্ত থাকি।
উদ্বোধন প্রসঙ্গে ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইন-এর আহ্বায়ক পাপেল কুমার সাহা বলেন, তরুণ সমাজ বিনির্মাণে আমরা বিশ্বব্যাপী মাদকের অপব্যবহার রোধে একটি উদ্যোগ নিয়েছি। বৈশ্বিকভাবে আমাদের উদ্যোগে কিছু মানুষ সম্পৃক্ত হবে, সে মানুষগুলোও তার চারপাশের কিছু মানুষকে সম্পৃক্ত করবে। এভাবে সামষ্টিকভাবে আমরা আমাদের প্রচারণা দিয়ে মানুষকে সচেতন করে যাবো। তবেই মাদকের অপব্যবহার রোধে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুস্থ সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
প্রসঙ্গতঃ ভৌগলিক অনুকূলতা, কৌতূহল, হতাশা, মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, সঙ্গদোষ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনের উদাসীনতা ও বিশ্বায়নের প্রভাব মূলত মাদকাসক্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত। শঙ্কার বিষয়, World Drug Report 2025 -এ তথ্যানুসারে, সংগঠিত মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলো বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বৈশ্বিক সংঘাত মাদক সম্পর্কিত অপরাধের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে, যা একসময় লাতিন আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা মাদক পাচারকারী সংস্থাগুলোর জন্য আরও বেশি পাচারের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকাজুড়ে কোকেন পাচারকারীরা নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করছে। জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা – United Nations Office on Drugs and Crime (UNODC)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদকাসক্ত জটিল সামাজিক, স্বাস্থ্যগত ও অপরাধমূলক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত এবং মাদকের অপব্যবহার আর্থ-সামাজিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। বাংলাদেশ যেখানে অরক্ষিত অবস্থায় পতিত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় বলা হয়, দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ লাখ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মাদকাসক্তদের মধ্যে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পুরুষ; ২ লাখ ৮৫ হাজার নারী এবং ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু। যা সত্যিই শঙ্কার বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইন’র অবস্থান। উল্লেখ্য,‘ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইন’ ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সুস্থ সমাজব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্য এবং ‘আঁধারে আলো হই’-এই মূলমন্ত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে সরাসরি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মাদকের অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাজ করে আসছে ।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply